ব্রেকিং নিউজ
৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৪৯

‘ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

 

ডেস্ক নিউজ : প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম ‘ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ পেয়েছেন।

নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক সংস্থা ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড তাঁকে এই পুরস্কার দিয়েছে। সাহসী সাংবাদিকতার জন্য সেরা অদম্য সাংবাদিক বা ‘মোস্ট রেজিলিয়েন্ট জার্নালিস্ট’ শ্রেণিতে তিনি এই পুরস্কার পান।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরের সিটি হলে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টা) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই পুরস্কার দেওয়া হয়। পাকিস্তানের খ্যাতিমান সাংবাদিক হামিদ মীরের হাত থেকে রোজিনা ইসলামের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তাঁর স্বামী মো. মনিরুল ইসলাম। রোজিনার পাসপোর্ট জব্দ থাকায় তিনি পুরস্কারটি নিতে নেদারল্যান্ডস যেতে পারেননি। তবে তিনি ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রোজিনা বলেন, ‘আমি এই পুরস্কার দেশের সেই সব সাংবাদিককে উত্সর্গ করছি, যাঁরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও সেরা সাংবাদিকতা করে যাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘কারাগার থেকে বেরিয়ে আমি বলেছিলাম, সাংবাদিকতা চালিয়ে যাব। এ পুরস্কার পাওয়ার পর আমি আবারও বলছি, আমার লড়াই চলবে।’

রোজিনা ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি অবশ্যই বদলাবে, মানুষের ভালোর জন্য বদলাতে হবে। আমি সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম।’

ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার উত্কর্ষের জন্য বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে কাজ করে। বিশ্বব্যাপী ৯০টির বেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংস্থাটিকে সহায়তা করে।

‘ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয় মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য লড়াই করা সাংবাদিকদের। গত বছর একই পুরস্কার পেয়েছিলেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা। তিনি এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। 

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম তুলে ধরতে গিয়ে নিগ্রহ, নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন। সাহসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড জানায়, রোজিনা ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেন। তিনি করোনাকালে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম প্রকাশ্যে এনেছেন। নিজের দেশে এখন তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। 

বিচারকরা একমত হয়ে রোজিনা ইসলামকে সেরা অদম্য সাংবাদিক হিসেবে মনোনীত করেন। তাঁরা বলেন, মহামারির এই সংকটময় সময়ে অনিয়ম বের করে আনতে সাংবাদিকের লড়াইয়ের সঙ্গে আমরা সংহতি প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি রোজিনা ইসলামকে হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম গত ১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন। তাঁকে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে তাঁকে শত বছরের পুরনো ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে’ গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রোজিনা ইসলাম পাঁচ দিন পর জামিনে মুক্ত হন। তাঁকে নির্যাতন ও মামলার প্রতিবাদে দেশ-বিদেশে কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন দেশীয় ও বৈশ্বিক সংস্থা প্রতিবাদ জানায়। জামিনে মুক্তি পেলেও এখনো রোজিনার মামলা তুলে নেওয়া হয়নি। তিনি তাঁর পাসপোর্ট, মুঠোফোন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিবালয়ে প্রবেশের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডও ফেরত পাননি।

এ বছর ‘মোস্ট রেজিলিয়েন্ট জার্নালিস্ট’ শ্রেণিতে পুরস্কারের জন্য রোজিনা ছাড়াও মরক্কোর সাংবাদিক ওমর রাদি ও বেলারুশের সাংবাদিক রামান ভাসিউকোভিচ মনোনীত হয়েছিলেন।

রোজিনা ইসলামের পাওয়া পুরস্কারের অর্থমূল্য সাড়ে সাত হাজার ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। 

পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে ফ্রি প্রেস আনলিমিটেডের ওয়েবসাইটে রোজিনা ইসলাম সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি নানা হুমকি ও হয়রানির মধ্যেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি দুর্নীতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে দমে যাননি।

কিউএনবি/রেশমা/৩রা নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ/সকাল ১১:৩৫

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন