ব্রেকিং নিউজ
২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:১০

নভোচারী না হয়েও ঝুঁকি নিয়ে কেন মহাকাশে যাচ্ছেন তারা!

 

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : শখের বশে নভোচারী না হয়েও মহাকাশে পাড়ি জমাচ্ছেন আমাদের মতোই সাধারণ চারজন মানুষ।

এর মধ্য দিয়ে মহাকাশে সাধারণ মানুষের ভ্রমণের শুরু হবে। কোটিপতি জেফ বেজস আর রিচার্ড ব্র্যানসনের পর তারাই টাকা দিয়ে টিকিট কিনে মহকাশ ভ্রমণে যাচ্ছেন তারা। ভ্রমণের পুরো অর্থই দিয়েছেন মার্কিন কোটিপতি জ্যারেড ইসাকম্যান। তিনিই বাকি তিনজনকে নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন মহাকাশে।

বাকি তিনজনের মধ্যে একজন ডাক্তারের সহকারী, একজন প্রকৌশলী আর একজন বিজ্ঞানী। অন্যদের এ রোমাঞ্চকর ভ্রমণে আগ্রহী করতে আর শিশুদের ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে অর্থায়নের জন্যই এ উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এই মিশনের নাম দিয়েছেন ইন্সপিরেশন ফোর।

ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেস এক্সের তৈরি ড্রাগন মহাকাশযান আর ফ্যালকন নাইন রকেটে করে মহাকাশে উড়বে এ চারজন।

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় ছেড়ে যাবে রকেট। উঠবে ৫৭৫ কিলোমিটার ওপরে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকেও ১৫০ কিলোমিটার ওপরে উঠবে এ মহাকাশ যান। নভোচারীরা তিন দিনের এ সফরে প্যানারোমিক ভিউ দেখবে পৃথিবীর।

পৃথিবীর চারপাশে ৯০ মিনিটে একবার ঘুরবে এই মহাকাশযান। পুরো সময়টা জিরো গ্র্যাভিটিতে ভাসতে থাকবেন নভোচারীরা। তবে ক্যাপসুলের ওপরে থাকা জিরো গ্র্যাভিটি ফ্রি টয়লেট ব্যবহার করতে পারবেন তারা। গোসল করতে পারবেন না তারা। যেই সিটে ভ্রমণ করছেন পর্যায়ক্রমে সেই সিটেই বিশ্রাম নিতে হবে তাদের।

এবারই প্রথম সব সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে কোন ফ্লাইট যাচ্ছে মহাকাশে। জ্যারেড ইসাকম্যান তৃতীয় সেই কোটিপতি যিনি নিজের টাকায় কিনেছেন মহাকাশ যান স্পেস এক্সের ফ্লাইটের টিকিট। তবে তাদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা।

স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুল ১৩ ফুট প্রস্থের। এই ক্যাপসুল স্পেস এক্সের ফ্যালকন নাইন রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাতেই। জ্যারেড ইসাকম্যান অবশ্য খুব ভালো একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজে নেমেছেন।

তিনি ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চান। তার সাথের যাত্রীদেরও তিনি এ লক্ষ্যেই সঙ্গে নিচ্ছেন। হ্যালে আর্কেনাক্স একজন ডাক্তারের সহকারি যিনি সেন্ট জুড চিলড্রেন রিসার্চ হসপিটালে কাজ করেন। ডাক্তার সিয়ান প্রোক্টরি একজন বিজ্ঞানী। ক্রিস সেমব্রোস্কি এরোস্পেস কোম্পানিরি একজন প্রকৌশলী।

ফ্যালকন নাইন রকেট রিফাইনড কেরোসিন ফুয়েল ব্যবহার করে,যেটা গ্রিনহাউজ গ্যাস তৈরিতে সহায়তা করে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তৈরি হয় কার্বন ডাই অক্সাইন আর নাইট্রোজেন অক্সাইড। যেটা বিশ্ব উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই দূষণ পুরো এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় নগণ্য। এরপরও আশঙ্কা থেকেই যায় কারণ স্পেস ট্যুরিজমও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
 

কিউএনবি/রেশমা/১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১:৪৮

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন