ব্রেকিং নিউজ
২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৩৯

ইবাদতে আগ্রহ বাড়বে যেভাবে

 

ডেস্ক নিউজ : পার্থিব জীবনের স্থিরতা ও নিশ্চলতার বিপরীতে পরকালের দিকে অগ্রসর হওয়ার তিনটি দিক : ক. বিশ্বাসের গতিশীলতা, খ. কর্ম-চাঞ্চল্য, গ. অবস্থার সচলতা। মুমিন পরকালের আকর্ষণে ও ধ্যানে সর্বদা চিন্তিত থাকে এবং তার অনুসন্ধানে লিপ্ত থাকে।

দুনিয়াদার মুসলমানের ভেতরেও বিশ্বাসের গতিশীলতা বিদ্যমান। কিন্তু কাজের ও অবস্থার গতিশীলতা নেই। সে পরকালের জন্য কোনো ধ্যান বা চেষ্টা থাকে না। এ রোগ খুবই ব্যাপক। সাধারণ মানুষ দূরের কথা—শিক্ষিত সমাজের অবস্থাও অনুরূপ।

পরকালের ভয়ে তাদের মন অস্থির হয় না। যে অবস্থায় আছে তাতেই স্থির থাকে। মনে করে, নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছি। কিন্তু তার সঙ্গে কিছু নফল নামাজ আদায়ের কোনো আগ্রহ থাকে না।

উল্টো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো আদায় করা হয় না। তার পরও আমরা নিজেদের নিয়ে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে আল্লাহ মুমিনের অবস্থা বর্ণনা করেছেন, ‘এবং যারা তাদের রবের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে—এ বিশ্বাসে তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৬০)

উল্লিখিত আয়াতে বলা হচ্ছে, নেক কাজ করার পরও মুমিনের অন্তর আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকে। সুতরাং বাহ্যত আল্লাহর সব আদেশ ও নিষেধ মেনে চলার পরও মুমিন পৃথিবীতে শান্তি, স্থিরতা ও নিশ্চিন্ত থাকা উচিত নয়। আর যদি কারো মন স্থির থাকে তবে বুঝতে হবে সে এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। কবি বলেন, ‘প্রেম কী? বোলো, প্রিয়জনের আজ্ঞাবহ দাস হওয়া এবং স্বীয় ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষাকে তারই ইচ্ছাধীন করে অস্থির ও পেরেশান থাকার নাম প্রেম।’

মুমিনের অন্তরে যে চিন্তা, যে চাঞ্চল্য, তা তো শুধু আল্লাহর নৈকট্য লাভ, তাঁর ভালোবাসার ময়দানে এগিয়ে যাওয়া জন্য। আর আল্লাহর নৈকট্যের কোনো সীমা নেই। কাজেই এক নির্দিষ্ট পরিমাণ নৈকট্য লাভ করে থেমে যাওয়া এবং পরিতৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। আল্লাহর দরবারের অবস্থা এমন যে যত উন্নতি লাভ করো না কেন, তা খুবই সামান্য। কবি বলেন, ‘হে ভাই, আল্লাহর দরবার একটি সীমাহীন দরবার। তার যত কাছে পৌঁছাবে তত সেই অতিক্রান্ত পথ মিশে যাওয়া অনতিক্রান্ত বলে মনে হবে।

জাগতিক জীবনে ধনাঢ্য ব্যক্তিরা পার্থিব জীবনে যত উন্নতি লাভ করুক না কেন, কোনো পর্যায়েই তৃপ্ত হয় না। যে পরিমাণ সম্পদের মালিক হোক না কেন, তাতে তৃপ্তি থাকে না; বরং আরো সম্পদের লিপ্সায় প্রতিনিয়ত অস্থির থাকে। কিন্তু আফসোস! আখিরাতের বেলায় মানুষ কিভাবে শুধু নামাজের সামান্য কয়েকটি সিজদা করেই তৃপ্ত ও নিশ্চিন্ত হয়ে যায়। মোটকথা, যার যে বস্তুর দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা থাকে, তা লাভ করে সে কখনো তৃপ্ত হয় না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আখিরাতের বেলায় মন তৃপ্ত হয়ে যায়।

মাওয়ায়িজে আশরাফিয়া থেকে আবরার আবদুল্লাহর ভাষান্তর

কিউএনবি/রেশমা/১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:৫৫

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন