২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:৫৯

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গোটা জাতি বিভক্ত হয়ে গেছে : ফখরুল

 

ডেস্ক নিউজ : দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সকল রাজনৈতিক শক্তির বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে দেশের একমাত্র প্রধান সংকট হচ্ছে যে, আমাদেরকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে-টু রেস্টোর ডেমোক্রেসি। আজকে আমাদের গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে, স্বাধীনতার সমস্ত চেতনা লুণ্ঠন করে নিয়েছে। বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে হবে এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবার জন্যে। আজ মঙ্গলবার (২ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগ জাতিকে বিভক্ত করেছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গোটা জাতি বিভক্ত হয়ে গেছে। তারা শুধুমাত্র তাদের নেতা এবং যে সমস্ত নেতৃবর্গ আছেন তাদেরকে ছাড়া আর কাউকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্যে স্বীকৃতি দিতে চায় না। তিনি বলেন, স্বাধীনতা কোনো একজন বিশেষ ব্যক্তি বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠি বা দলের কারণে আসেনি। স্বাধীনতা এসেছে দীর্ঘকাল ধরে এদেশের মানুষের যে স্বাধীনতা আকাঙ্ক্ষা আমি যতটুকু দেখেছি যে, সেই বৃটিশ পিরিয়ড থেকে এদেশের মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা করে আসছিল, সেজন্য এখানে বৃটিশদের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলন হয়েছে, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠে যার নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা জানাতে চাই যিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে এদে্শের স্বাধীন হওয়া হতো না, তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে সারা দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তো না, তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে সত্যিকার অর্থেই যে চেতনার জন্য আমরা লড়াইটা করেছিলাম-একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সেটা সম্ভব হতো। দুর্ভাগ্য আমাদের স্বাধীনতার পরে যারা ক্ষমতায় বসলেন তাদের হাতে গণতন্ত্র হত্যা হলো, তারা সর্বপ্রথম পুরনো কালাকানুন বিশেষ ক্ষমতা আইন, জরুরি অবস্থার আইন এবং সর্বপরি সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করল। তাদের যে রাজনৈতিক ক্যামেস্টি, তাদের যে চিন্তা-দর্শন সেখানে একটা একনায়কতান্ত্রিকতা, একটা স্বৈরাচারী মনোভাব ইনহেরেন্ট তাদের মধ্যে রয়ে গেছে। সেই কারণে এতো দীর্ঘকাল পরে আবার ক্ষমতায় আসার পরে তারা সেই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করবার জন্য একই পথ বেঁছে নিয়েছে।

ফখরুল বলেন, আজকে সরকার গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান ধবংস করেছেন, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে ব্যবহার করছেন। আজকে সত্যিকার একটি স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণ করা, সত্যিকার অর্থে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করা, সত্যিকার অর্থে একটা উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সেটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা কেনো যুদ্ধ করেছিলাম? আমরা তো যুদ্ধে ছিলাম। কেনো করেছিলাম যে, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আজকে ইসু একটা, ক্রাসিস একটা- গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর প্রমুখ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ /রাত ৯:০৫

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন