ব্রেকিং নিউজ
২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:০২

অবিশ্বাস্য, করোনাকে পরাজিত করে ১১০ বছরে পা রাখলেন তিনি!

 

ডেস্ক নিউজ : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। তরুণ-তরুণী-বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই রয়েছেন মৃত্যুর তালিকা। করোনাভাইরাসে তাণ্ডবে যখন বিশ্ববাসী চরম দিশেহারা, তখন অবিশ্বাস্যভাবে এই ভাইরাসকে জয় করলেন ১১০ বছরবয়সী এক বৃদ্ধা। নাম তার হিলদা ব্রাউন।

ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার নিউজার্সিতে। নিউজার্সির টলউড কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন হিলদা ব্রাউন। সেখানেই গত সপ্তাহে বিশেষ একটি উপহার এল। এটি হল ১১০টি গোলাপের তোড়া। এর প্রতিটি গোলাপ হিলদা ব্রাউনের জীবনের এক একটি বছরের প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থাৎ তিনি জানিয়ে দিলেন ১১০ বছর বয়সে তিনি এখনও বেঁচে আছেন। হালিদা ব্রাউন করোনাভাইরাসকে পরাজিত করে সুস্থ হয়েছেন। তারপর গত ২০ জানুয়ারি তার বয়স হয়েছে ১১০ বছর। এ জন্য ওই কেয়ার সেন্টারের পাঠানো হয়েছে ১১০টি গোলাপ।

এর মধ্য দিয়ে হিলদা ব্রাউন সুপারসেন্টেনারিয়ান ক্লাবে পৌঁছে গেলেন। এই ক্লাবে ওইসব মানুষকে ধরা হয়, যাদের বয়স ১১০ বছর বা তারও বেশি। জেরোনটোলজি উইকি ওয়েবসাইট অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে এমন বয়সী মানুষ আছেন ৭৬ জন। নভেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন হালিদা ব্রাউন। তারপর সুস্থ হয়ে তিনি ওই ক্লাবের মাইলস্টোন স্পর্শ করেছেন। এমন অর্জনে তার ‘গ্রেট-নাইস’ ক্রিস্টেন হাউ বলেছেন, আমরা পুরোমাত্রায় বিস্মিত। আমাদের পুরো পরিবার আনন্দে ভাসছে। খবর ইউএসএ টুডে’র।

ক্রিস্টেন হাউ বলেছেন, মধ্য নভেম্বরে তাদের পরিবারে খবর যায় যে, হিলদা ব্রাউনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে গিয়েছিলেন এমন একজনের দেহে করোনাভাইরাস পজেটিভ ধরা পড়েছে। এরপর তার পরিবারকে আরও জানানো হয় হালিদার রুমমেটও করোনা পজেটিভ। এর পর পরই হালিদা ব্রাউনের পরীক্ষা করানো হয়। তাতে তার করোনাভাইরাস পজেটিভ ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়। হাউ বলেছেন, তখন তার মধ্যে কোনও লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। আমাদের বড় উদ্বেগ ছিল, তাকে যারা দেখাশোনা করতেন তাদেরকে পালাক্রমে পাল্টানো হচ্ছিল। তাকে যেসব নার্স দেখাশোনা করতেন, যারা তার যত্ন নিতেন তাদের সবার সঙ্গে তার ছিল অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। কিন্তু আস্তে আস্তে হালিদা ব্রাউনের অক্সিজেন লেভেল কমে আসতে থাকে। এ সময় হালিদাকে সরবরাহ দেওয়ার মতো মাত্র এক মাসের অক্সিজেন মজুত ছিল।

ক্রিস্টেন হাউ বলেছেন, সম্প্রতি আমাদেরকে বলা হয় তার আর বাড়তি অক্সিজেন প্রয়োজন নেই। তাকে তার রুমে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি কিছু খাচ্ছিলেন না। ফলে তার স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। নিরাপত্তার কারণে কাচের জানালার ভিতর দিয়ে আমরা তাকে ওই কেয়ার সেন্টারে দেখতে যাই। দেখতে পাই তিনি সচেতন আছেন। কথা বলছেন। স্বাভাবিক কথা বলছেন।

জানা গেছে, বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ যে বছর ডুবে যায়, তখন তার বয়স ছিল এক বছর। ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর ভিতর দিয়ে তিনি বেঁচে আছেন। তার বয়স যখন ৩০-এর দশকে তখন তিনি নিজের বাসস্থান ছেড়ে নিউজার্সির ফোর্ট লি’তে চলে যান। চার দশক ধরে সেখানে তিনি একজন ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৮০ সালে অবসরে যান। ৯৩ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্তু তিনি নিজের গাড়ি নিজেই চালাতেন। ১০৩ বছর বয়স পর্যন্ত হাঁটাচলা করেছেন। ১০৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নিজের হাতে পোশাক বুনেছেন। জীবনের বেশির ভাগ সময় অন্যের সেবায় কাজ করেছেন। গত বছর তিনি বলেছিলেন, কে এত দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে? আমাদের ১০ ভাইবোনের মধ্যে শুধু আমিই বেঁচে আছি। বাকিরা সবাই মরে গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বয়সী মানুষদের তালিকা করে জেরোনটোলজি রিসার্স গ্রুপ নামে একটি সংস্থা। এর রবার্ট ইয়াং বলেছেন, প্রতি ৪০ লাখ মানুষের মধ্যে একজন মাত্র মানুষ পাওয়া যায়, যিনি ১১০ বছর বা তারও বেশি পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। জেরোনটোলজি উইকি’র তালিকায় এমন বয়সী আরও দু’জন মানুষ আছেন নিউজার্সির। তবে তাদের মধ্যে হালিদা ব্রাউনের বয়সটাই বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বয়সী হিসেবে এখনও বেঁচে আছেন নর্থ ক্যালিফোর্নিয়ার হেস্টার ফোর্ড। তার বয়স এখন ১১৫ বছর। 

কিউএনবি/রেশমা/২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১:৫৫

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন