২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:৩৭

অভিযানের শেষ দিনেও থেমে নেই ইলিশ শিকার

 

ডেস্ক নিউজ : নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও থেমে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে ইলিশ শিকার। টানা ২২ দিন ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষ করেই নদীতে জাল ও নৌকা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে মৌসুমি জেলেরা। অভিযানের মধ্যেও নদীতে জাল ফেলছে তারা। সুগন্ধা নদীর দপদপিয়া পুরনো ফেরিঘাট এলাকা থেকে শুরু করে বিষখালী নদীর হদুয়া পর্যন্ত শতাধিক স্থানে জাল ফেলে মা ইলিশ ধরেছে তারা।  আজ বুধবার ভোরে নলছিটি উপজেলার চরবহরমপুর এলাকায় একঝাক মৌসুমি জেলে ইলিশ শিকারে নামে। সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় তারা দুই মণ ইলিশ মাছ ধরেছেন বলে নদী তীরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বেশিরভাগ ইলিশের পেটে এখনো ডিম রয়েছে। এসব মা ইলিশ ডিম ছাড়তে আরো ১০ দিন সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে এ মাছগুলো জেলেদের জালে ধরা পড়বে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কুষ্ণ ওঝা জানান, টানা ২২ দিনের অভিযানে ৩৩ জেলেকে আটক করে কারাদণ্ড ও ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া নদী থেকে প্রায় তিন লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৯০০ কেজি ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০৬টি অভিযান ও ১৫৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে নিষিদ্ধ সময়ে।  এদিকে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে সুগন্ধা নদী থেকে মা ইলিশ শিকার করার সময় মৌসুমি জেলে রুবেল খানকে আটক করা হয়। এ সময় ৪০ কেজি ইলিশ মাছ ও ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাছবীর হোসেন মৌসুমী জেলে রুবেল খানকে সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। জালগুলো জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইলিশ মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, ঝালকাঠি জেলায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার নদীতে ইলিশের প্রজনন হয়। বরিশালের কীর্তনখেলা নদীর সীমানা শেষে শুরু হয় ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা নদী। সেখান থেকেই নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া, কুমারখালী, গৌরিপাশা, কংশার দীঘি, মল্লিকপুর, ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট, চর বহরমপুর, মাটিভাঙা, সরই ও ভবানীপুর, ঝালকাঠি সদরের দেউরি, দিয়াকুল, পোনাবালিয়া, গাবগান নদীর মোহনা ও কলেজ খেয়াঘাট। এ ছাড়াও রাজাপুরের বিষখালী নদীর বড়াইয়া, চল্লিশ কাহনিয়া, নাপতেরহাট ও কাঁঠালিয়া উপজেলার হলতা নদীর আমুয়া বন্দরসহ শতাধিক পয়েন্টে সকাল থেকে চললে ইলিশ শিকার। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হলেও প্রতিদিন চার দফায় ইলিশ মাছ ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। সকালে এক দফায়, দুপুরে, সন্ধ্যায় এবং মধ্যরাতে ইলিশ শিকার করছেন মৌসুমি জেলেরা। প্রতিটি ইলিশ মাছে পেটভরা ডিম রয়েছে।

নলছিটি পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা রিপন হোসেন বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই নদীতে জাল ফেলেছে জেলেরা। তবে প্রকৃত জেলেদের দেখা যায়নি, এরা সবাই মৌসুমি জেলে। নদীর তীরে বসবাস করায় অন্য কাজের ফাঁকে তারা নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরে। নদীতে এ সময় প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। তাই একবার জাল ফেলে ৩০ মিনিট রাখতে পারলেই হয়ে যায়।  নলছিটির ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, এই ২২ দিনের একদিনও বন্ধ হয়নি ইলিশ শিকার। অভিযানের ট্রলার একদিকে নামলে অপরদিকে মাছ ধরার উৎসব চলে। আবার সেদিকে অভিযানের ট্রলার গেলে সেখানকার জেলেরা পালিয়ে যায়। কিন্তু অন্য প্রান্তের জেলেরা আবার জাল ফেলে। এটা বন্ধ করতে হলে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পয়েন্টে অভিযানের ট্রলার রাখতে হবে। বেশি ভালো হয় যদি অভিযানে স্পিডবোট রাখা যায়।

নলছিটির প্রকৃত জেলে যুধিষ্ঠি দাস বলেন, আমরা সারা বছর নদীতে জাল ফেলে মাছ শিকার করি। নিষেধাজ্ঞার সময় কখনো নদীতে জাল ফেলি না। কারণ এই সময় মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। নদীতে মাছ বেশি থাকলেই আমাদের আয় ভালো হবে। কিন্তু আমরা না ধরলেও ঠিকই মৌসুমি জেলেরা মাছ ধরছে। যার ফলে নদীতে সব সময় ইলিশ পাওয়া যায় না। এজন্য অভিযান আরো জোরালো করা দরকার। এখনো বেশিরভাগ ইলিশ ডিম ছাড়তে পারেনি। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে এ মাছগুলো ধরা পড়বে।  ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝা বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সবকিছু বিবেচনা করেই। এখনো ইলিশের পেটে ডিম রয়েছে। অভিযানের শেষ দিনে যেসব মাছ উদ্ধার হয়েছে, তাতে কিছু মাছে এখনো ডিম রয়েছে। তবে এ বছর অভিযান সফল হয়েছে। মৌসুমি জেলেরা সারাক্ষণ আতঙ্কে ছিলো।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং /বিকাল ৪:১১

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন